
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর বিষয় নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে গুমের নির্দেশ দিয়ে উল্টো গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের সান্ত্বনা দেওয়ার মাধ্যমে অভিনয়ের চরম নিদর্শন দেখিয়েছেন। শনিবার ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলা মিলনায়তনে নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। BDUS News 24-এর আজকের এই প্রতিবেদনে থাকছে এই আয়োজনের বিস্তারিত সর্বশেষ আপডেট। শেখ হাসিনা গুমের নির্দেশদাতা
আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের সাক্ষ্যপ্রমাণ ও গুমের প্রসঙ্গ
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান যে, আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে গুম হওয়া ব্যক্তিদের সাক্ষ্য-প্রমাণ এখন জনগণের সামনে একদম পরিষ্কার হয়ে গেছে। তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই ছিলেন সব গুমের প্রধান নির্দেশদাতা। অথচ অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে তিনি গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্ত্রী ও সন্তানদের গণভবনে ডেকে আনতেন এবং তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দিয়ে বলতেন যে তাদের স্বজনদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে। অথচ ওই নিখোঁজ ব্যক্তিরা কোথায় আছেন, সে বিষয়ে তিনি নিজেই ওয়াকিবহাল ছিলেন।
তার এই দ্বিমুখী আচরণকে ইঙ্গিত করে স্পিকার বলেন, শেখ হাসিনা মূলত বিশ্বের সেরা অভিনেত্রীর মতো অভিনয় করে গেছেন। সে সময় সাধারণ মানুষ বা দেশের জনগণ তার এই গভীর চাল বুঝতে পারেনি, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সবকিছু দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে গেছে। এ সময় তিনি বিগত দিনে হওয়া বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের কঠোর নিন্দা জানান এবং একজন ব্যারিস্টারকে দীর্ঘ আট বছর ধরে হাতকড়া পরিয়ে আয়নাঘরে বন্দি করে রাখার মতো অমানবিক ও জঘন্য ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেন।
শেখ হাসিনা গুমের নির্দেশদাতা ছিলেন: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ
দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও দেশত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে মেজর হাফিজ উদ্দিন আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন পদে আসীন ছিলেন, ক্ষমতা হারানোর পর তারা সবাই একে একে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। এমনকি শুধু রাজনৈতিক নেতৃত্বই নয়, বিচার বিভাগের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিরাও দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উক্ত মতবিনিময় সভায় স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল এবং উপজেলা যুবদলের সভাপতি শাজিনুর ইসলাম কবির হাওলাদারসহ স্থানীয় অনেক নেতাকর্মী অংশ নেন। লালমোহনের এই নাগরিক মতবিনিময় সভাটি বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। শেখ হাসিনা গুমের নির্দেশদাতা
শেখ হাসিনা ও গুমের ঘটনা নিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের বক্তব্য পড়তে এখানে ক্লিক করুন






