
ঢাকা: দেশীয় বাজারে ফের লাফিয়ে বেড়েছে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দাম। গতকাল শুক্রবার যে পরিমাণ দাম কমানো হয়েছিল, তার ঠিক ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আজ শনিবার সমপরিমাণ মূল্য বৃদ্ধি করে নতুন দর ঘোষণা করেছে জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এতে করে ভরি প্রতি ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম আবারও দেশের ইতিহাসে উচ্চপর্যায়ে অবস্থান করছে।
বাজুস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের (Pure Gold) মূল্য বাড়ার কারণে এই নতুন দাম সমন্বয় করা হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টা থেকেই সারাদেশে এই নতুন মূল্য কার্যকর করা হয়েছে।
স্বর্ণের মান অনুযায়ী নতুন মূল্য তালিকা
বাজুসের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মূসক বা ভ্যাট (VAT) অন্তর্ভুক্ত রেখে চার ক্যাটাগরির স্বর্ণের দর পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্যাটাগরি অনুযায়ী ১ ভরির (১১.৬৬৪ গ্রাম) আজকের নির্ধারিত দর নিচে প্রকাশ করা হলো:
- ২২ ক্যারেট (22K Hallmarked): ভরি প্রতি ২,১৫৮ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা।
- ২১ ক্যারেট (21K Hallmarked): ভরি প্রতি ২,১০০ টাকা বেড়ে নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৫ টাকা।
- ১৮ ক্যারেট (18K Hallmarked): প্রতি ভরিতে ১,৮০৮ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমান বাজারদর নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ২০৬ টাকা।
- সনাতন পদ্ধতি (Traditional Gold): প্রতি ভরিতে ১,৪৫৮ টাকা বাড়িয়ে সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের নতুন দাম করা হয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ টাকা।
অপরিবর্তিত রয়েছে রূপার দাম
স্বর্ণের দর নিয়মিত উঠানামা করলেও রূপার বাজারে বর্তমানে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। বাজুসের নির্ধারিত আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে দেশের সব ক্যাটাগরির রূপা।
- ২২ ক্যারেট রূপা: ভরি প্রতি ৫,০৭৪ টাকা।
- ২১ ক্যারেট রূপা: ভরি প্রতি ৪,৮৪১ টাকা।
- ১৮ ক্যারেট রূপা: ভরি প্রতি ৪,১৯৯ টাকা।
- সনাতন পদ্ধতির রূপা: ভরি প্রতি ৩,১৫৯ টাকা।
কাস্টমারদের জানা জরুরি কিছু নিয়মাবলি
অলঙ্কার ক্রয় ও পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি দিক খেয়াল রাখতে বাজুসের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়। জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের নিয়ম অনুসারে, বাজুস নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের সাথে শতকরা ৫ শতাংশ সরকার নির্ধারিত ভ্যাট (VAT) এবং ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করে ক্রেতাদের গহনা কিনতে হয়। তবে বাজুস আগেই স্পষ্ট করেছে যে, প্রদর্শিত মূল্যের সাথে ভ্যাট যুক্ত থাকায় জুয়েলারি দোকানগুলো অতিরিক্ত ভ্যাট আদায় করতে পারবে না। অন্যদিকে পুরোনো গহনা পরিবর্তন বা বিক্রি করার সময় নির্ধারিত ১৭ শতাংশ পর্যন্ত কাস্টমার ডিক্রি বা ছাড়ের নিয়ম বহাল থাকছে।
জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং দেশীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের সরবরাহ কম-বেশি হওয়ার কারণেই দফায় দফায় এমন দাম পরিবর্তন করতে হচ্ছে। নতুন ঘোষিত দরে সারাদেশে গহনা কেনাবেচা সচল থাকবে।




